রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়সহ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। পুনর্বাসন ছাড়া কোনো ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন কলোনির বাসিন্দারা।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। এতে মিটফোর্ড হাসপাতালের সুইপার কলোনিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় হরিজন সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন শ্রেণির পরিচ্ছন্নতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। হাসপাতালের নতুন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য তাঁদের আবাসন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ভবন অপসারণের টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বক্তারা জানান, মিটফোর্ড হাসপাতালের সুইপার কলোনিতে হরিজন সম্প্রদায়ের পাশাপাশি হেলা, ডোমার, বাল্মীকি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও বসবাস করছেন। তাঁদের দাবি, কলোনিতে বর্তমানে ৬১টি পরিবারে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মানুষ থাকেন। তাঁদের অধিকাংশই হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এসব পরিচ্ছন্নতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ তাঁদের আবাসনসংকট নতুন নয়। ২০১৫ সালেও হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা আবাসনসংকট এবং সুইপার কোয়ার্টার ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন একই এলাকায় বসবাসের কারণে কলোনিটি বাসিন্দাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে থাকা পরিবারগুলো আবাসনসহ নানা সংকটে পড়বে।
তাঁদের বক্তব্য, মিটফোর্ড হাসপাতালের অবকাঠামো আধুনিকায়ন প্রয়োজন হলেও উন্নয়নের নামে কোনো পরিবারকে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা উচিত নয়। উচ্ছেদের আগে বিকল্প আবাসন, পুনর্বাসন, জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধন থেকে পুনর্বাসন ছাড়া কোনো পরিবারকে উচ্ছেদ না করা, স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এবং পুনর্বাসন এলাকায় পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মিটফোর্ড হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি ওঠে।

