গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নিজামকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিজামকান্দি গ্রামের আহাদ আলী মোল্যার মেয়ে ইয়াসমিন খানমের (২৪) সঙ্গে একই এলাকার লালটু মোল্যার (২৮) প্রায় আট বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লালটু ইয়াসমিনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
একপর্যায়ে প্রায় দেড় মাস আগে ইয়াসমিন স্বামীকে তালাক দেন। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে থাকছেন। পরিবারের দাবি, তালাকের পর লালটু বিভিন্ন সময় ইয়াসমিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে লালটুকে ইয়াসমিনের বাবার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে তিনি বাড়ির উঠানে রাখা খড়ের স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও খড়ের স্তূপটি পুড়ে যায়।
পরিবারের আরও দাবি, এর প্রায় ১৫ দিন আগেও লালটু ওই বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তখন আশপাশে লোকজন থাকায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।
ইয়াসমিনের বড় ভাই ও সৌদি আরবপ্রবাসী তারিকুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর বোন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি তালাক নিয়েছেন। এরপর থেকেই লালটুর হুমকি-ধমকিতে তাঁদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে লালটু মোল্যা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তাঁকে অযথা অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

