নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার লালবাগে ৩ লাখ টাকা পাওনা আদায় করতে গিয়ে বন্ধুর হাতে এক জমি ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর শেখ ওয়াসিম রনির (রনি) মরদেহ বন্ধুর বাড়ির নিচতলায় বালুর স্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রনি তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগী ও বন্ধু মাসুমের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। ওই টাকা আদায়ের জন্য গত ৮ সেপ্টেম্বর মাসুমের লালবাগের বাসায় যান তিনি। সেখানে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রনির ওপর হামলা চালানো হয়।
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামিল হোসেন জানান, মাসুম রনির মাথায় ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর তাঁর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম স্বীকার করেছেন।
পরে বাড়ির নিচতলায় থাকা বালু সরিয়ে সেখানে রনির মরদেহ পুঁতে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৩ লাখ টাকার চেক নিতে গিয়েছিলেন রনি
রনির মেয়ে রামিসা আক্তার সোনাম জানান, তাঁর বাবা জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তিনি যাত্রাবাড়ীর বাসা থেকে বের হয়ে মাসুমের কাছ থেকে পাওনা ৩ লাখ টাকার একটি চেক আনতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন।
মাসুম চকবাজারের আশিক টাওয়ারের একজন ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায়ী।
রামিসা জানান, বাসা থেকে বের হওয়ার পর বাবার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি ও তাঁর মা রনির সন্ধানে মাসুমের লালবাগের বাসায় যান। সেখানে শুধু মাসুমের স্ত্রীকে পাওয়া যায়।
পরে ফোনে মাসুমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, চেকটি রনির হাতে দিয়ে দিয়েছেন এবং এরপর রনি কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না।
নিখোঁজের পর সাধারণ ডায়েরি
রনির পরিবারের পক্ষ থেকে ওই রাতেই লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরিবারের ভাষ্য, জিডি করার সময় মাসুমও উপস্থিত ছিলেন এবং পরে রনিকে খুঁজে বের করার কাজে পরিবারের সঙ্গে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন।
তবে মাসুমের বাড়ির কাছের একটি গলির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পরিবারের সন্দেহ তৈরি হয়। ফুটেজে তাঁর গতিবিধি এবং ক্যামেরা এড়িয়ে চলার চেষ্টা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ বাড়ে।
এরপর পুলিশ মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর মরদেহ বালুর নিচে পুঁতে রাখার বিষয়টিও জানান।
লালবাগ থানার ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রনির ৩ লাখ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

