অর্থনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন থেমেছে এবং বর্তমানে তা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তবে একই সময়ে বিনিয়োগে স্থবিরতা, বেসরকারি খাতে ঋণের সংকট এবং শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
আহসান এইচ মনসুরের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এরপরও বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় এসব পণ্য আমদানি করতে পারছে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান রিজার্ভ পরিস্থিতি এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্বস্তি দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে রিজার্ভের পতন ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং তা ধীরে ধীরে বেড়েছে।
তবে রিজার্ভ বাড়লেও অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোতে এখনো চাপ রয়েছে। দেশে বিনিয়োগ অনেকটাই স্থবির। কাঙ্ক্ষিত নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত ঋণও পাচ্ছেন না।
বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প ও কারখানাগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ কঠিন হবে বলে মনে করেন আহসান এইচ মনসুর। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন কমে গেলে রপ্তানি আয়ও কমে যেতে পারে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্য আমদানি করতে হয়। এসব আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। অন্যদিকে রপ্তানি আয় কমে গেলে দেশে ডলারের প্রবাহও কমবে। এতে ভবিষ্যতে রিজার্ভ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সাবেক এই গভর্নরের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু রাখার ফলে ডলারের বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। তবে বর্তমানে আবারও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডলার কেনাবেচায় সীমা নির্ধারণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও সতর্ক হতে হবে বলে মনে করেন আহসান এইচ মনসুর। তাঁর মতে, শুধু রিজার্ভের স্বস্তিদায়ক অবস্থান যথেষ্ট নয়; রপ্তানি আয় বাড়ানো, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিল্প খাতে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট দূর করাও জরুরি।

