নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
জরুরি প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন বিল ও নির্ধারিত ফি পরিশোধে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে এ সুবিধা ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, এই ঋণের টাকা গ্রাহকের হাতে নগদ হিসেবে দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট বিল বা সেবার বিপরীতে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকের সাময়িক অর্থসংকট মোকাবিলা এবং দেশে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ব্যাংকগুলো ছয় মাস এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পরে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে।
যেসব কাজে ঋণ পাওয়া যাবে
‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধার আওতায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ফি, চিকিৎসা ব্যয়, সঞ্চয়ের কিস্তি, বিমার প্রিমিয়াম, ভ্রমণ ব্যয়, কর এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার ফি পরিশোধ করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত অন্যান্য নির্দিষ্ট খরচেও এ ঋণ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
ঋণের টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব বা ডিজিটাল ওয়ালেটে জমা হবে না। বরং ঋণ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্ধারিত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা বিল গ্রহণকারী সংস্থার কাছে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ হবে।
সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ
এই ঋণের মেয়াদ হবে ৭, ১৫ অথবা ৩০ দিন। মেয়াদ ও ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দিতে হবে। চাইলে গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণের মূল টাকা ও ফি পরিশোধ করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সর্বোচ্চ ফি অনুযায়ী, ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য বিভিন্ন ঋণসীমায় আলাদা চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন, ৭ হাজার ১০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে যথাক্রমে ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া যাবে।
ঋণের মূল অর্থ ও নির্ধারিত ফি ৭ দিনের ঋণের ক্ষেত্রে ৮ম দিনে, ১৫ দিনের ঋণের ক্ষেত্রে ১৬তম দিনে এবং ৩০ দিনের ঋণের ক্ষেত্রে ৩১তম দিনে পরিশোধ করতে হবে।
কীভাবে পাওয়া যাবে
গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাপে জরুরি বিল বা নির্ধারিত ফি পরিশোধের প্রয়োজন দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণের প্রস্তাব দেখানো হতে পারে। গ্রাহক সম্মতি দিলে অ্যাপের মাধ্যমেই ঋণের আবেদন করা যাবে।
কাগজে স্বাক্ষরের পরিবর্তে ডিজিটাল সম্মতি দিতে হবে। পরিচয় যাচাইয়ে গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হবে। ঋণ গ্রহণের আগে ঋণের ধরন, পরিমাণ, মেয়াদ, ফি এবং পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে গ্রাহককে জানাতে হবে।
ব্যাংকগুলো চাইলে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং অন্যান্য ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও নিতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সব নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
ঝুঁকি যাচাই করে নির্ধারণ হবে ঋণসীমা
ব্যাংকগুলো বিকল্প ডিজিটাল স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রাহকের ঋণযোগ্যতা যাচাই করতে পারবে। গ্রাহকের ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যাংকের নিজস্ব অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, সাময়িক অর্থসংকটের কারণে অনেক গ্রাহক সময়মতো বিল ও ফি দিতে পারেন না। এতে কখনো সেবা বন্ধ হওয়া, জরিমানা বা অন্য ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। নতুন এই ডিজিটাল ঋণব্যবস্থা সেই সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সিটি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরূপ হায়দার বলেন, এ ধরনের সেবা চালু হলে মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানো সহজ হবে। যেহেতু ঋণের টাকা নগদে তোলা যাবে না এবং নির্দিষ্ট সেবার জন্যই ব্যবহার করতে হবে, তাই এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।
এর আগে বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ঋণসেবা চালু করেছে।

