নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাম্প্রতিক অনুসন্ধানের অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। সংস্থাটি আসিফ মাহমুদ ছাড়াও তৎকালীন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জুবায়ের হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
দুদকের অভিযোগের একটি অংশে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল এবং পরবর্তী সময়ে পদায়ন নিয়ে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে পদায়ন ঘিরেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাখ্যায় আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০২১ সালে ১০ম গ্রেডের ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ছাড়াই ৯ম গ্রেডের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে ২০২৫ সালে আদালত সেটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। তখন ১১২ জনের মধ্যে ৩৮ জন চলতি দায়িত্বে ছিলেন। আদালতের রায় অনুযায়ী তাদের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে মূল পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, এরপর ওই ৩৮টি পদসহ বিদ্যমান শূন্য পদে পদোন্নতির জন্য সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা, সার্ভিস রেকর্ড, এসিআর ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি পিএসসিতে পাঠানো হয়। তাঁর দাবি, পিএসসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিজস্বভাবে কাউকে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
তিনি বলেন, আদালতের রায় বাস্তবায়ন ও পিএসসির পদোন্নতি প্রক্রিয়ার কোনোটিতেই তাঁর ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ ছিল না। একটি আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং অন্যটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রক্রিয়ার অংশ বলে দাবি করেন তিনি।
দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দল ও মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে দুদককে ব্যবহারের প্রবণতা আবারও দেখা যাচ্ছে।
দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’—এমন বক্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সংবাদ নিয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এর আগে, দুদকের পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলা হলেও পরে কমিশনের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম ওই শব্দ ব্যবহারের বক্তব্য সংশোধন করেন। তিনি জানান, ব্রিফিংয়ের সময় ভুলবশত ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে এবং এটি ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব নথি ও তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে। সত্যতা উদঘাটনের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথাও জানান তিনি।
তবে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা অনুসন্ধান শেষে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই পরবর্তী সময়ে বিষয়টির চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করবে।

