নিজস্ব প্রতিবেদক
নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৭৩৪ জন এবং তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেপালের কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটিতে এখনো ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ। এ ছাড়া ৭ হাজার ৫১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান বারবার স্থগিত
দুর্যোগের পর থেকে ব্যাপকভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও খারাপ আবহাওয়া ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় কয়েক দফা অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
গত বুধবার তিব্বত-নেপাল সীমান্তে একটি হিমবাহের অংশ ধসে পাথর, মাটি ও কাদায় নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়। পরে হ্রদের পানি উপচে নেপালের নদীগুলোতে প্রবেশ করতে শুরু করলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দেয়।
হাজারো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
রেডক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নেপালে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। ভয়াবহ ঢল ও ভূমিধসে বিভিন্ন গ্রাম, স্থাপনা ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তিব্বতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে নেপাল, ভারত, লাটভিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
চীন জানিয়েছে, এই দুর্যোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থাকতে পারে।
উদ্ধারকাজ চলমান থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়া, কাদাধস ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

