নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীর পল্লবীর সেকশন-১২ এলাকায় এক নারীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ‘আশিক গ্যাং’-এর সদস্যদের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে বাড়ি দখল এবং পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী আছিয়া (৬০)।
এ ঘটনায় ২৪ আগস্ট পল্লবী থানায় রাসেল (৩৬), ইব্রাহীম (৩০), শাহিন (৩৬), নওশাদ (৪০) ও অমিত (৩৮)সহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন আছিয়া। এজাহারে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৭, ৪৪৮ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পল্লবীর মিরপুর-১১ রাবেদা ক্যাম্প এলাকায় আছিয়ার একটি বাড়ি রয়েছে। অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। কিছুদিন আগে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে বাড়ি দখল এবং পরিবারের সদস্যদের জানমালের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২৪ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে অভিযুক্তরা আবারও দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং আগের দাবিকৃত চাঁদার টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাসেল পিস্তল বের করে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনি আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন আছিয়া। ভবিষ্যতে আবারও চাঁদার টাকা দাবি করে তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পল্লবী থানায় দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

