নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার প্রবাসী আমির হোসেন রোববার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে মামলাটি করেন।
মামলায় আরমান উদ্দিন ছাড়াও তাঁর সহযোগী মো. আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, মো. আরমান উদ্দিন, মো. আদিল, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীনকে আসামি করা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী কবির জিলান জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (এএসপি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, আমির হোসেন লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করে নিচতলাসহ বিভিন্ন অংশে দোকান ভাড়া দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন।
বাদীর অভিযোগ, কিছুদিন ধরে প্রথম আসামি আরিফ উদ্দিন, তৃতীয় আসামি আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল রাত প্রায় দুইটার দিকে আসামিরা ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখান থেকে স্টিলের আলমারি, দেয়ালের শোকেসসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দোকানের ক্যাশ টেবিল ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরে ভাঙা অংশে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবনের অন্য ভাড়াটিয়াদেরও তাঁদের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলে বাদীর অভিযোগ।
বৈঠক করে চাঁদা দাবির অভিযোগ
মামলায় আরও বলা হয়েছে, গত ২০ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে আমির হোসেনের মার্কেটে আসামিরা বৈঠক করেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন তাঁকে বলেন, ২০ লাখ টাকা না দিলে তাঁর দোকান ও বাড়ির দখল তাঁরা ছাড়বেন না।
বাদীর অভিযোগ, আরমান উদ্দিন ফোনে তাঁকে চাপ দিয়ে আসামিদের কথা অনুযায়ী চলতে বলেন। একপর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আমির হোসেন বলেন, থানায় মামলা নেওয়া হয়নি বলেই তিনি আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চান তিনি।
জবাব মেলেনি
চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী আরমান উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তাঁকে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
মামলার অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও জড়িতদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

