ক্রীড়া প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ শেষে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে জয় এবং এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ ড্র—দুটি ফলই বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এর সঙ্গে ম্যাকাই টেস্টে বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংও সফরের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে।
ম্যাকাই টেস্টে শরীফুল নিয়েছেন ৭ উইকেট। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে আউট করা তাঁর একটি ডেলিভারিকে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার এই টেস্টের সেরা বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হাবিবুল বাশার বলেন, ম্যাকাই টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ১০টি উইকেট নিতে পারলেও বাংলাদেশ পেয়েছে ২০টি। তাঁর মতে, ম্যাচে বেশ কিছু দুর্দান্ত ডেলিভারি ছিল, তবে ক্যামেরন গ্রিনকে শরীফুল যেভাবে আউট করেছেন, সেটিই ছিল সেরা।
অস্ট্রেলিয়ায় বদলে গেছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি
অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বিদেশিদের চোখে। দলের সঙ্গে থাকা হাবিবুল বাশার জানান, সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষও বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করছেন।
ডারউইন থেকে ম্যাকাই—বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশ দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ হেরে হতাশ হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করছেন তাঁরা।
হাবিবুলের মতে, এখন থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররাও বাংলাদেশকে অন্যভাবে মূল্যায়ন করবেন। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশ যে যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সক্ষমতা রাখে, এই সিরিজে সেটির প্রমাণ মিলেছে।
টেস্টে উন্নতির ধারাবাহিকতা
অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে খুব কম মানুষই ভেবেছিলেন বাংলাদেশ একটি টেস্ট জিতবে এবং শেষ পর্যন্ত সিরিজ ড্র করে ফিরবে। এমনকি সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল।
হাবিবুল বাশার অবশ্য বাস্তবতা ভুলে যেতে চান না। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শক্তিশালী টেস্ট দল হয়ে ওঠেনি, তবে গত দুই বছরে দলের উন্নতি স্পষ্ট। পাকিস্তানসহ সাম্প্রতিক সিরিজগুলোর ফলাফলও সেই ধারাবাহিকতার প্রমাণ।
অস্ট্রেলিয়া সফরের পর বাংলাদেশ টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য নতুন মাইলফলক। পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাবিবুল।
শরীফুলের লাল বলের প্রতি আগ্রহ
শরীফুলের পারফরম্যান্সকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রধান নির্বাচক। তাঁর মতে, কয়েক বছর আগে শরীফুল সাদা বলের ক্রিকেটেই বেশি আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু গত এক বছরে লাল বলের ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ম্যাকাই টেস্টের আগে শরীফুল জানিয়েছিলেন, টেস্টে কখনো পাঁচ উইকেট পাননি এবং এবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চান। শেষ পর্যন্ত তিনি ৭ উইকেট নিয়ে নিজের সেরাটা দেখিয়েছেন।
হাবিবুল মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির গুরুত্ব থাকলেও একজন বোলারকে বিশ্বমানের পরিচিতি পেতে টেস্ট ক্রিকেটে কার্যকর পারফরম্যান্স দেখাতে হয়। শরীফুলের লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগ বাংলাদেশের জন্য তাই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
সামনে আরও পাঁচ টেস্ট
অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস আগামী পাঁচ টেস্টে বাংলাদেশকে কাজে দেবে বলে মনে করেন হাবিবুল। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো পেসবান্ধব কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেসারদের সাফল্যকে তিনি দলের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।
ডারউইনের জয়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ ড্র, র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি এবং শরীফুলের ৭ উইকেট—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে শুধু ফল নয়, আত্মবিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক সম্মানও সঙ্গে নিয়ে ফিরছে বাংলাদেশ।

