ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৬: আগামী ৩ অক্টোবর ভারতের কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। এরই মধ্যে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
রোববার বেলা ৩টার দিকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জাতীয় স্টেডিয়ামে যায় প্রতিনিধিদলটি। সেখানে তারা মাঠ, ঘাসের অবস্থা, বাউন্স, ড্রেসিংরুম, শৌচাগার, গ্যালারি ও মিডিয়া বক্সসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখে। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতির সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। রাতেই প্রতিনিধিদলটির ঢাকা ছাড়ার কথা।
ব্রাজিলের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকে ঘিরে বাংলাদেশে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পর ভারত যাওয়ার কথা ব্রাজিলের। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর বা ১ অক্টোবর ঢাকায় অনুশীলন করে কলকাতায় যাওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনা হচ্ছে।
কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়াম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামকে বিকল্প ও নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২০ আগস্ট কলকাতার মাঠ, অনুশীলন মাঠ, ড্রেসিংরুম ও অন্যান্য সুবিধা পরিদর্শন করে সিবিএফের প্রতিনিধিদল মাঠের অসমান পৃষ্ঠ ও ঘাসের ঘনত্ব নিয়ে আপত্তি তোলে।
বাফুফের মাঠ কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, ব্রাজিলের প্রতিনিধিদলের কাজই হলো সম্ভাব্য ভেন্যু আগে পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করা। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামকে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করার কথা প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য কোনো দলের সঙ্গে কিংবা বাংলাদেশের বিপক্ষেও ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইকবাল হোসেন আরও বলেন, ফিফা উইন্ডোতে ব্রাজিল যখন ভারতে আসছে, তখন বাংলাদেশে তাদের নিয়ে ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করা যেতে পারে। বাংলাদেশ দল ওই সময়ে এএফসি বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকলেও ব্রাজিল দল ঢাকায় এসে ম্যাচ না খেলেও অনুশীলন করলে তা দেশের ফুটবলের জন্য বড় ঘটনা হবে।
জাতীয় স্টেডিয়ামে নতুন ঘাস লাগানো হয়েছে এবং মাঠের সংস্কারকাজ চলছে। মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ লাগবে বলে জানিয়েছেন ইকবাল হোসেন। তাঁর মতে, কাজ শেষ হওয়ার পর ব্রাজিলের প্রতিনিধিদল আবার মাঠ পরিদর্শনে আসতে পারে।

