গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাশিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীনের মুখে পড়েছে ‘ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় চরবাসীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী, জেলা প্রশাসন ও পাউবোর কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে বিদ্যালয় রক্ষার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন ঠেকাতে সময়মতো জিও ব্যাগ ফেলা হলে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব হতে পারত। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি ও কৃষিজমি
তিস্তার ভাঙনে ইতোমধ্যে এলাকার দেড় শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমিও নদীতে তলিয়ে গেছে। এতে স্থানীয় মানুষের বসতভিটা ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর থেকে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যালয়টি রক্ষার পরিবর্তে এর আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করা হয়।
শ্রমিকরা তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছেন। চরবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হারানোর শঙ্কায় চরবাসী
স্থানীয়দের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় শিশুদের পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চরবাসীর দাবি, শুধু বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া নয়, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাঁরা দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

