দেশে চলমান গ্যাস সংকট আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা-১৭ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহাখালীর ওয়্যারলেস টিঅ্যান্ডটি মাঠে দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে ভুগছেন। বিশেষ করে মহানগর, শহর, উপজেলা ও জেলা শহরগুলোতে এ সংকটের প্রভাব পড়েছে। সিএনজি ও এলপিজিসহ বিভিন্ন ধরনের গ্যাসের ক্ষেত্রেও সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজনীয় গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। জাহাজের মাধ্যমে আমদানি করা গ্যাস সংরক্ষণের জন্য দেশে ভাসমান স্টোরেজের ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে দুটি ভাসমান স্টোরেজ সুবিধার একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট কারিগরি ত্রুটি এরই মধ্যে মেরামত করা হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।’
বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বিদ্যুতের জন্য যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তা তিনি জানেন। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বর্তমানে গ্যাস সরবরাহে সংকটের প্রভাব সিএনজি স্টেশন, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য খাতেও পড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসা ও উৎপাদন কার্যক্রমেও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল মেরামত ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংকটের মাত্রা কমে আসতে পারে। তবে সংকট পুরোপুরি কাটতে সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

