বেলজিয়ামের পূর্বাঞ্চলের হাই ফেনস এলাকায় শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ দাবানলে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দেশটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় দাবানল বলে জানা গেছে।
দাবানলের আগুন দ্রুত জার্মান সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় ওই এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় বায়ুদূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে বেলজিয়ামের পাশাপাশি জার্মানি ও লুক্সেমবার্গের দমকলকর্মীরাও কাজ করছেন। উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বেলজিয়ামের সেনাবাহিনী ও স্থানীয় কৃষকরাও সহায়তা করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঠানো হেলিকপ্টার ও বিমানও আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হয়েছে।
তাপপ্রবাহ ও খরায় বেড়েছে আগুনের ভয়াবহতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরা দাবানলকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে। বেলজিয়ামের হাই ফেনস অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে।
এর আগে ২০১১ সালে বেলজিয়ামে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর বনভূমি দাবানলে পুড়ে গিয়েছিল। এবারের আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এরই মধ্যে সেই রেকর্ডের দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে একাধিক দেশের জরুরি বাহিনী একসঙ্গে কাজ করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

