হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কঠোর জবাব দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে নিয়ে এমন মন্তব্য করা বড় ভুল। প্রয়োজন হলে ইরানের প্রতিরোধকারী যোদ্ধারা ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে দেবে’।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-এর বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক রসিকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন হাতামি।
তিনি বলেন, “ইরানকে নিয়ে এমন রসিকতা করা বড় ভুল। কারণ এটি ইরান। এই দেশে এমন যোদ্ধা রয়েছে, যারা প্রয়োজনে আপনার পা ভেঙে দেবে।”
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য

এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করার হুমকি দেন। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর তেহরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে।
ইরানের সেনাপ্রধান দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী কার্যত বিতাড়িত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী এখন পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালীতে আগের মতো প্রবেশ করতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না এবং ইরান কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বিভিন্ন শিপিং কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র অল্পসংখ্যক জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করতে পারছে।
ফলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও কড়া বার্তা
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, বিমানবাহী রণতরী পাঠানো, আদেশ জারি কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দখল করা সম্ভব নয়।
তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘অপরাধী’ ও ‘বোকা’ বলেও মন্তব্য করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে সামরিকভাবে বাধা দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী তেল, গ্যাস ও নৌপরিবহন ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।
Source: Royanews

