ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ ও ভূমিধসের কারণে বহু এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভূ-ভৌতিক সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পর শত শত আফটারশক অনুভূত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে প্রায় ৩৪১টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান
ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ভূমিধসে বেশ কিছু সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি নাজেওকেও এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা সড়কপথে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়েছেন।
মাউমেরেসহ বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়া ভবনের নিচে মানুষ আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক বাসিন্দা আফটারশকের আশঙ্কায় ঘরের বাইরে তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে অবস্থান করছেন।
সুনামি সতর্কতা জারি, পরে প্রত্যাহার
ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কিছু এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়। এ কারণে সাময়িকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও প্রায় তিন ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করা হয়।
প্রবল কম্পনের কারণে পূর্ব নুসা তেংগারা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কিছু পেট্রল স্টেশনও বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
‘রিং অব ফায়ার’-এ ফের বড় ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এই অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এর আগেও একই এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পাশে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোক
ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৫ আগস্ট পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর কাছে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান।
ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
Source: https://www.bbc.com/bengali/articles/c8xnnvrpy8yo

