রাজনৈতিক প্রতিবেদক | দৈনিক রিপোর্ট
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলীয় হাইকমান্ডের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যেকোনো সময় নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে। নতুন নেতৃত্বে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণ ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাইকমান্ডের বৈঠক, বিদায় ‘সুপার ফাইভ’-এর
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের সঙ্গে বর্তমান ‘সুপার ফাইভ’ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে ছাত্রদলের বর্তমান শীর্ষ পাঁচ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
তারা হলেন—সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান।
বৈঠকে তারেক রহমান নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে বর্তমান নেতাদের মতামত ও সম্ভাব্য নাম জানতে চান বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে বর্তমান নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়।
সূত্রের দাবি, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের হাতেই থাকবে।
সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
২০২৪ সালের ১ মার্চ গঠিত ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ চলতি বছরের মার্চে শেষ হয়। এরপর থেকেই নতুন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন খোরশেদ আলম সোহেল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, সাফি ইসলাম ও ইজাজুল কবির রুয়েল।
২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, মোমিনুল ইসলাম জিসান, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, শরীফ প্রধান শুভ ও ফারুক হোসেন।
দলীয় সূত্র বলছে, সভাপতি পদে আমান উল্লাহ আমান বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রার্থীদের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে।
সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক নাম
সাধারণ সম্পাদক পদে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, তারিকুল ইসলাম তারিক, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও মাসুম বিল্লাহ।
অন্যদিকে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স ও নাসির উদ্দিন শাওন।
নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে বিএনপির বার্তা
নতুন কমিটি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংগঠনিক গতিশীলতা ধরে রাখতে নেতৃত্বে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। বিদায়ী নেতাদের নতুন কমিটিতে অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তাকিয়ে নেতাকর্মীরা
নতুন কমিটি ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ ও লবিং চলছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতৃত্বের বিভিন্ন পদে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত ঘোষণার আগে তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটির মাধ্যমে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সংগঠনটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচন বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা নয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষিত, গ্রহণযোগ্য ও গঠনমূলক রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম নেতৃত্ব গড়ে তোলাও নতুন কমিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

