
দৈনিক রিপোর্ট ডেস্ক:
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, জনপ্রতিনিধিদের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানবিক সহযোগিতার অনুরোধ নিয়মিত আসায় বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই দুর্নীতি কমানো এবং দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের স্বার্থে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা হওয়া উচিত বলে তিনি মত দিয়েছেন।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত কাউন্সিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, একজন সংসদ সদস্য বর্তমানে যে বেতন-ভাতা পান, তা দিয়ে নির্বাচনী এলাকার মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা, খেলাধুলা, সামাজিক অনুষ্ঠান বা জরুরি প্রয়োজনে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে অনেক জনপ্রতিনিধি আর্থিক চাপের মুখে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা, আর বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে মোট প্রাপ্তি প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। একজন মন্ত্রীর বেতনও জনগণের প্রত্যাশার তুলনায় খুব বেশি নয়। এ কারণে দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাদের ব্যক্তিগত আর্থিক ভিত্তি শক্ত নয়, তাদের জন্য সীমিত আয়ে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে যায়। এ অবস্থায় অনৈতিক পথে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো দুর্নীতি প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়েছে।
নুরুল হক নুর জানান, বর্তমান সরকার সংসদ সদস্যদের করমুক্ত গাড়ি আমদানি ও প্লটের মতো কিছু সুবিধা বাতিল করেছে। তবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রতিটি সংসদ সদস্যের জন্য সরকারি একটি গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, যা দায়িত্বের মেয়াদ শেষে সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দেওয়া হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯ম পে-স্কেল প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর দাবি যৌক্তিক এবং এটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন ও জনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
এ ছাড়া তিনি জানান, বিদেশফেরত ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরকারি সেবা সহজ করতে সরকার শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। এই কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার সুবিধা পাবেন বলেও উল্লেখ করেন।
