২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।
সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযোগভুক্ত অন্য ছয় আসামি হলেন—সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম।
আসামিদের মধ্যে মির্জা আজম এখনো গ্রেপ্তার হননি। বাকি ছয়জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪-দলীয় জোট রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, মামলার আসামিরা তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নীতিনির্ধারক হিসেবে আন্দোলন দমনে অংশগ্রহণ, সহযোগিতা, পরামর্শ ও অবদান রেখেছেন বলে তদন্তে অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলন দমনের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ আন্দোলনকারী নিহত এবং ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগে আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কারফিউ জারি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের অর্থ আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত নয়; অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

