প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)। এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
রোববার (১ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এনইসির সভাপতি শফিক রেহমান ও কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলেন রাশেদ খান। এ সময় পত্রিকাটি ও এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন তিনি। ৩১ অক্টোবর পত্রিকাটিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এমন আচরণ করেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এনইসি নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য ভিডিও করে প্রচার করা নিন্দনীয়। এ ধরনের আচরণ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিবাদলিপি পাঠানো, প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করা কিংবা আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব পদ্ধতি অনুসরণ না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে সংবাদপত্র সম্পর্কে কী বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনইসি নেতারা।
তাঁদের মতে, সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা উসকানিমূলক আচরণ।
এ ছাড়া সম্প্রতি ‘আমার দেশ’-এর একটি পুরোনো প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার দাবিকেও উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
বিবৃতিতে এনইসি নেতারা অতীতের বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা, পত্রিকা অফিসে আগুন দেওয়া ও হামলার ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে।
সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ, সম্পাদকদের হুমকি এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে এনইসি নেতারা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

