তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পোশাকশ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলন ও সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সরকার তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে।
মন্ত্রী জানান, কারখানাগুলোর উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পোশাক খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর প্রায় ৩০০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুরে সকাল ৯টার দিকে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বেলা ৩টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরেও একই দাবিতে সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকেরা। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সংঘর্ষের পর নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়।
পোশাক খাতের উৎপাদন সচল রাখা এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

