শীত মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে রাত ৮টার পরিবর্তে ৯টা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট বিভিন্ন সময়ে সন্ধ্যা ৬টা, ৭টা এবং বর্তমানে রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ব্যবসা পরিচালিত হওয়ায় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, অনেক দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বিক্রিবাট্টা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি ঢাকার দুটি বড় মার্কেটও বেচাকেনা না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক মার্কেট বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের পক্ষে দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দোকান মালিক সমিতি বলছে, বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট আগের তুলনায় অনেকটা কমে এসেছে। পাশাপাশি শীত মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। এ সময় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন করে গতি ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আর্থিক দুরবস্থা বিবেচনায় নিয়ে রাত ৮টার পরিবর্তে ৯টা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
তাদের মতে, দোকানপাট খোলা রাখার সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত সময় ক্রেতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে বেচাকেনা বাড়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে সহায়তা পাবে।
তবে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

