দেশে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর ঘটনা বাড়ার মধ্যেই রোগটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
আইইডিসিআরের এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাম ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে অন্তত ৭৩ জনের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গবেষণা অনুযায়ী, হাম ভাইরাস শিশুর শরীরে প্রবেশের পর আগে থেকে তৈরি রোগ প্রতিরোধের ‘স্মৃতি’ বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নষ্ট করে দিতে পারে। ফলে হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পরও শিশুর শরীর অন্যান্য সাধারণ জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারায় বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এ কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও কানের সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এসব জটিলতা গুরুতর হয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
আইসিইউতে বাড়ছে চাপ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর অবস্থায় থাকা হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সংকটও তৈরি হয়েছে। রাজধানীর মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালে শিশুদের জন্য থাকা ৫৪টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ৪৮টিতেই গুরুতর অসুস্থ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইনফেকশাস ডিজিজেস হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আরিফ হাসান বলেন, বিশেষ করে তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের হাম হওয়ার পর যথাযথ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সঠিক চিকিৎসার ওপর শিশুর জীবন বাঁচানো অনেকটাই নির্ভর করে।
টিকাদানে জোর
আইইডিসিআরের চিকিৎসকেরা হাম থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সময়মতো টিকা দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী টিকা নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে হাম ভাইরাসের কারণে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি কম থাকে এবং গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাম আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নোট: প্রতিবেদনে হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা এক জায়গায় ১,০১৯ এবং সংশ্লিষ্ট অংশে ১,০৯১ উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাব দিয়ে সংখ্যাটি যাচাই করা উচিত।
