হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর অবস্থান নিয়ে নতুন দাবি করেছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিত। কিন্তু বর্তমানে কৌশলগত এই জলপথে কিংবা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নেই বলে দাবি করেন তিনি।

মার্কিন সামরিক অবস্থান নিয়ে ইরানের বক্তব্য

আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির মুখ থেকে কমপক্ষে ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকি ও বক্তব্য মূলত পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র আড়াল করে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা।

তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও সাংগঠনিক কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নেই।

তবে এসব বক্তব্য ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্রের দাবি। উৎস প্রতিবেদনে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ার এই নির্দিষ্ট দাবির কোনো পাল্টা বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। তাই বিষয়টি নিশ্চিত তথ্যের পরিবর্তে ইরানের দাবি হিসেবে বিবেচনা করাই যথাযথ।

হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালির এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান। বিশ্বের জ্বালানি পণ্যের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এই কারণে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উপস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

অবরোধ ও সমঝোতার পটভূমি

উৎস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরু করার পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে।

পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরপর হরমুজ প্রণালি থেকে ইরান এবং ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌবাহিনী অবরোধ ও প্রহরা প্রত্যাহার করে বলে উৎস প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ১৩ জুলাই ইরান ওই সমঝোতা থেকে বের হয়ে যায় এবং হরমুজ প্রণালিতে আবারও অবরোধ জারি করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সামনে কী হতে পারে

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক তৎপরতা এবং দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে। বিশেষ করে এই জলপথে জাহাজ চলাচল, সামরিক উপস্থিতি এবং জ্বালানি পরিবহনের ওপর যেকোনো বড় পরিবর্তন আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে—এই তথ্য বর্তমানে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া দাবি হিসেবে রয়েছে। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা মার্কিন সরকারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে পরিস্থিতির আরও পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version