স্ত্রী হত্যার অভিযোগ দিয়ে যে অপরাধজীবনের শুরু, এরপর গত ১২ বছরে একের পর এক গুরুতর অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান মাতুব্বর ওরফে হৃদয়ের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ঢাকার আশুলিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারী নাজমা বেগম ও তাঁর স্বামী আলমগীর কবিরকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন মনিরুজ্জামান।
পিবিআই জানিয়েছে, বর্তমানে মনিরুজ্জামান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে স্ত্রী হত্যা এবং একটি দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায়ও গ্রেপ্তার ও কারাভোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিজের স্ত্রী রাহেলা বেগমকে হত্যার অভিযোগ ওঠে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তিনি পালিয়ে যান। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ওই মামলায় প্রায় চার বছর কারাভোগের পর ২০১৮ সালে জামিনে মুক্ত হন তিনি। পরে আবারও আত্মগোপনে চলে যান এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
জামিনে মুক্তির পর আশুলিয়ায় অবস্থান নিয়ে তিনি আরও অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর মধ্য আশুলিয়ার জামগড়ার একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম (৩৯) ও তাঁর স্বামী আলমগীর কবিরের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় নাজমার গর্ভের সন্তানও মারা যায়।
নাজমার বোনের করা হত্যা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই ঢাকা জেলা। তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে মনিরুজ্জামানের নাম সামনে আসে। পরে ৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পিবিআইয়ের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি আলমগীর ও নাজমাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাজমার ব্যবহৃত ফোন, সিম, পরিচয়পত্র ও পার্স উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, আলমগীরের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের পরিচয় ছিল। নাজমার সঙ্গে মনিরুজ্জামানের সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর আলমগীরের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। তদন্তকারীদের মতে, ২ সেপ্টেম্বর মনিরুজ্জামানকে দাওয়াত দিয়ে বাসায় ডাকার পর সেখানে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। পরে আলমগীর ও নাজমার মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া ২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বর আশুলিয়ার নয়ানগরে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায়ও মনিরুজ্জামানের নাম আসে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তদন্তে তিনি ওই ঘটনাতেও জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের আট মাস পর জামিনে মুক্ত হন তিনি।
মনিরুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁর আচরণ ও একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণে পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্বজনদের দাবি, অপরাধের জন্য তিনি আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পেলেও পরিবারের কোনো আপত্তি বা আক্ষেপ থাকবে না।
পিবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, স্ত্রী হত্যার অভিযোগ দিয়ে শুরু হওয়া মনিরুজ্জামানের অপরাধের ধারাবাহিকতা পরবর্তী সময়ে আরও গুরুতর রূপ নেয়। সর্বশেষ আশুলিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারী, তাঁর স্বামী ও গর্ভের সন্তান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

