সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান এলাকার কাছে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) হেলিকপ্টারটি হুথিদের অবস্থানে হামলা চালানোর সময় গুলি করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করে গোষ্ঠীটি।
তবে রোববার (১৮ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, নাজরান অঞ্চলে একটি সামরিক হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারে থাকা দুই ক্রু নিহত হয়েছেন। হুথিদের দাবি ও সৌদি জোটের বক্তব্যে হেলিকপ্টারের ধরন এবং বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ নিয়ে পার্থক্য রয়েছে।
হেলিকপ্টার ভূপাতিতের দাবি হুথিদের
হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের সংবাদ সংস্থা সাবায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি সীমান্তবর্তী এলাকায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় তাঁদের যোদ্ধারা হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেন।
হুথিদের দাবি অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি ছিল সৌদি আরবের অ্যাপাচি সামরিক হেলিকপ্টার। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি জোটের বক্তব্য, নিহত দুই ক্রু
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি রোববার জানান, নাজরান অঞ্চলে একটি AH-6i রিকনেসান্স হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে দুই ক্রুর মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, হেলিকপ্টারটি সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছিল।
হুথিদের অ্যাপাচি ভূপাতিতের দাবির জবাবে আল-মালিকি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেন। তিনি হুথিদের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে মন্তব্য করেন, তাঁদের দাবি সত্ত্বেও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার আবারও যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেবে।
ইয়েমেন সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে সংঘাত তীব্র হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।
২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরবর্তী সময়ে তা ভেঙে যায়। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে নতুন করে সংঘাত বাড়ার পর সৌদি আরব ও ইয়েমেন সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
নাজরান এলাকায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা এই উত্তেজনার মধ্যেই ঘটল। তবে হুথিদের দাবি ও সৌদি জোটের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আনাদোলু এজেন্সি।
