যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার আশঙ্কার মধ্যে সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে ২৩ জন নাবিকসহ একটি ইরানি মাছ ধরার ট্রলার ছিনতাই করেছে সশস্ত্র জলদস্যুরা। ছিনতাই হওয়া ট্রলারটিতে ২১ জন ইরানি জেলে ও দুজন সোমালি নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভারত মহাসাগরীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র (এমএসসিআইও) এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ‘আজিনি’ নামের ইরানি ট্রলারটিতে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ঘটনাটি সোমালিয়ার বন্দর শহর বান্দার বেইলা থেকে প্রায় ১৮৫ নটিক্যাল মাইল পূর্বে ঘটে।
এমএসসিআইও জানিয়েছে, ট্রলারটি ছিনতাইয়ের পর সেখানে থাকা ২৩ জন ক্রুর শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
১২ জলদস্যুর হাতে জিম্মি ২৩ নাবিক
পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, ১২ জন জলদস্যু ট্রলারটি এবং এর ২৩ জন ক্রুকে জিম্মি করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কারণ, ‘আজিনি’ ট্রলারটির গঠনশৈলী অনেকটা সেই ধরনের নৌযানের মতো, যা সোমালি জলদস্যুরা সাধারণত ‘মাদার শিপ’ বা মূল জাহাজ হিসেবে ব্যবহার করে।
জলদস্যুরা ছোট নৌযান ছিনতাই করে সেগুলোকে ভ্রাম্যমাণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে। এসব নৌযানের মাধ্যমে তারা উপকূল থেকে অনেক দূরে স্পিডবোট নিয়ে গিয়ে বড় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে পারে।
এমএসসিআইও আরও জানিয়েছে, ট্রলারটি প্রায় ১১০ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকে সরে গিয়ে ওই অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
কেন্দ্রটি সতর্ক করেছে, জলদস্যুরা ইরানি ট্রলারটিকে ভবিষ্যতে অন্য জাহাজ ছিনতাইয়ের অভিযানে ‘মাদার শিপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
চলতি বছরে বেড়েছে সোমালি জলদস্যুদের তৎপরতা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই সোমালি জলদস্যুদের জাহাজ ছিনতাইয়ের তৎপরতা বেড়েছে। শুধু গ্রীষ্মকালেই তারা প্রায় ছয়টি জাহাজ দখল করেছে। এসব হামলার কয়েকটিতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
গত সেপ্টেম্বরে ‘অনার ২৫’ নামের একটি ছিনতাই হওয়া তেলবাহী ট্যাংকার উদ্ধারে অভিযান চালায় স্থানীয় পুলিশ। ওই অভিযানে ১৬ জন সন্দেহভাজন জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে অভিযানের আগেই ট্যাংকারটিতে গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন জিম্মি নিহত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক এ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছিনতাই হওয়া ট্রলারটি জলদস্যুদের পরবর্তী অভিযানে ব্যবহৃত হলে বড় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র।

