আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির নিষিদ্ধ তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর ফলে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার অবস্থান বদলে এখন সিরিয়ার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক সেবা বিক্রির আবেদন কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্যবিষয়ক ইন্টারন্যাশনাল ট্রাফিক ইন আর্মস রেগুলেশনস (ITAR) সংশোধনের ঘোষণা দেয়। নতুন নিয়ম ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে সিরিয়াকে এমন দেশগুলোর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে মার্কিন অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা-সেবা রপ্তানির লাইসেন্স সাধারণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হতো।

তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়া সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ধরনের মার্কিন অস্ত্র কেনার অনুমতি পাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিতে প্রতিটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, সামরিক সেবা কিংবা সংশ্লিষ্ট লেনদেনের আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট ২০২৬ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিরিয়ার জন্য নতুন প্রতিরক্ষা বাণিজ্য নীতি অনুমোদন করেন। পরে ওই নীতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ITAR-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সিরিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ২০২৬ সালের আগস্টে সিরিয়াকে ‘স্টেট স্পনসর অব টেররিজম’ তালিকা থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

এসব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দামেস্কের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আহমদ আল-শারা নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। ওয়াশিংটন এরপর ধাপে ধাপে সিরিয়ার ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করছে।

নতুন সিদ্ধান্তের পর এখন সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে কোন অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি হবে, তা নির্ভর করবে মার্কিন লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার অনুমোদনের ওপর।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version