নিজস্ব প্রতিবেদক | সাতক্ষীরা | ১২ অক্টোবর ২০২৬

ধান, পাট, মুগডাল ও দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে প্রতিমা সাজানোর পর এবার ৩৫ হাজার মুক্তাপুঁথির কারুকাজে দুর্গাপ্রতিমা সাজানো হচ্ছে সাতক্ষীরায়। জেলার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ। পূজা শুরুর আগেই মুক্তাপুঁথিতে সাজানো প্রতিমা দেখতে মন্দিরে ভিড় করছেন উৎসুক দর্শনার্থীরা।

মুক্তাপুঁথির কারুকাজে নতুনত্ব

মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর দুর্গোৎসবে প্রতিমায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেন আয়োজকেরা। গত বছর মাটির প্রতিমা তৈরি করা হলেও এবার দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে মুক্তাপুঁথির নান্দনিক কারুকাজ বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমার শরীর ও অলংকারে নিপুণভাবে বসানো হচ্ছে মুক্তাপুঁথি। প্রতিমা তৈরির মূল কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে রং করা ও অলংকার সাজানোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ মণ্ডল জানান, প্রায় আড়াই মাস ধরে চারজন শিল্পী প্রতিমার কাঠামো তৈরি, মাটির কাজ, রং ও মুক্তাপুঁথির কারুকাজে কাজ করছেন। রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে পুঁথিগুলো।

তিনি বলেন, দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় দেখা কয়েকটি মূর্তির নকশা এবং নিজেদের পরিকল্পনা মিলিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ৫২ দিনের পরিশ্রমে প্রতিমায় মুক্তাপুঁথির কারুকাজ ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। কাজের প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে।

১৭ অক্টোবর শুরু দুর্গোৎসব

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে বড়দল ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া আড়ং মেলা। এ সময় বড়দল বাজার, মধ্যম বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, বিষ্ণুপুর, ফাকরাবাদ পূর্বপাড়া, কইসিটি ও বুড়িয়াসহ আশপাশের প্রায় ১০টি মণ্ডপের প্রতিমা একত্র করে বিসর্জন দেওয়া হবে।

স্থানীয় দর্শনার্থী সুরের কর্মকার, টুম্পা মণ্ডল, পবিত্র সরকার, অর্পিতা সরকার ও শিখা রাণী জানান, প্রতিবছর দুর্গোৎসব ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। এবার মুক্তাপুঁথি দিয়ে সাজানো প্রতিমার কথা শুনে তাঁরা তা দেখতে এসেছেন। অন্য দর্শনার্থীদেরও মন্দিরে এসে উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি

বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরটিতে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিবছর নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন তাঁরা। এবার মুক্তাপুঁথির কারুকাজ প্রতিমায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল জানান, পূজার পাঁচ দিন সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার বৈদ্য জানান, এ বছর উপজেলায় ১০৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মণ্ডপে ব্যতিক্রমী প্রতিমা ও নান্দনিক সাজসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে। বুড়িয়ায় মুক্তাপুঁথির প্রতিমার পাশাপাশি ঘুঘুমারীতে ঝরনার আদলে এবং বুধহাটা কাছারিবাড়ি ও দক্ষিণ বড়দলে ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, উপজেলার ১০৬টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সাদাপোশাকের বিশেষ দল ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version