সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হাইকোর্টের কাছে আরও সময় চেয়েছে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স। তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের কাজ চলমান থাকায় নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত দল।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মামলাটির তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনেও তদন্তের তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাবকে সরিয়ে গঠন করা হয় টাস্কফোর্স
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব থেকে র্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করছে টাস্কফোর্স। এ অবস্থায় মামলাটির পরবর্তী অগ্রগতি জানতে আদালতের আদেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১২ সালে খুন হন সাগর-রুনি
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন।
পরদিন সকালে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বারবার পিছিয়েছে। নতুন করে টাস্কফোর্সের সময় চাওয়ার ঘটনায় মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
