ভোলার লালমোহনে সড়কের পাশের চার শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে দলীয় পদ হারিয়েছেন রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট ও দলীয় নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল। এদিকে গাছ কাটার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ভোলা জেলা যুবদলের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল কাদের সেলিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
২৪টি গাছ কাটার অনুমতি নির্ধারণ, কাটা হয়েছে চার শতাধিক
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে লালমোহন উপজেলার কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে।
সড়ক প্রশস্ত করতে কিছু গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে রেঞ্জ কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে সড়কের পাশের ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের দরপত্র বা অনুমোদন ছাড়াই রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চার শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে কর্তারহাট থেকে রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে। কাটা গাছের একটি অংশ স্থানীয় করাতকল ও আশপাশের এলাকায় মজুত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন, আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগের পর লালমোহন উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তাঁরা অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক বেলালকে আহ্বায়ক, লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষকে সদস্য সচিব এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হককে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলায় অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে এবং থানাকেও জানানো হয়েছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সড়ক সংস্কারের কাজের দরপত্র দেওয়া হলেও রাস্তার পাশের গাছ কাটার জন্য কোনো অনুমতি বা দরপত্র দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার যুবদল নেতার
তবে গাছ কাটার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. জসিম উদ্দিন। তাঁর দাবি, গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। আসন্ন রমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে গাছ কাটার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

