সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও আপাতত বাড়ছে না রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্মানী। উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন না পাওয়ায় তাঁদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ থেমে আছে। এদিকে নতুন পে স্কেলে সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মূল বেতন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মাসিক সম্মানীর চেয়েও বেশি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সম্মানী বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে এ বিষয়ে সরকারপ্রধানের সম্মতি না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি আর এগোয়নি।

নতুন পে স্কেলে কার বেতন কত?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় সচিবদের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে মাসে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক সম্মানী ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মানী ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। মন্ত্রীরা মাসে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রীরা ৯২ হাজার টাকা সম্মানী পান।

ফলে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মূল বেতন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান মাসিক সম্মানীর চেয়ে বেশি হয়েছে। তবে মূল বেতন ও সম্মানীর তুলনায় অন্যান্য ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি আলাদা।

কেন বাড়ছে না রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সম্মানী?

সাধারণত সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল কার্যকরের সময় রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিচারপতিদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এবারও একই ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। গত মাসে রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্মানী বাড়াতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের বিষয়ে সরকারপ্রধানের সম্মতি চাওয়া হয়। তবে তিনি তাতে সম্মতি দেননি বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সম্মানী বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ আপাতত নেই। শিগগিরই এ বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনাও কম।

জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধায় মিতব্যয়িতার নীতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার গঠনের আগে জনপ্রতিনিধিদের কিছু সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল। পরে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শপথ নেওয়ার দিন ঘোষণা দিয়েছিল, সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি নেবেন না। একই সঙ্গে তাঁদের সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছিল।

সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের ব্যয়সংযমের বিষয়টি যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্মানী বাড়ানোর বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পৃথক আইনে নির্ধারিত হয় সম্মানী

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বেতন, সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা পৃথক আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। ফলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তন হলেই তাঁদের সম্মানী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চললেও রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্মানী বাড়ানোর বিষয়টি আপাতত অনিশ্চিত রয়েছে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version