নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সংসদের ভেতরে জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার থাকা এবং রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে ধাপে ধাপে বড় আন্দোলনের দিকে এগোতে চায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।
বিরোধী দলের নেতাদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সার-সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো সরাসরি জনজীবনের সমস্যাগুলোকে সংসদে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিও রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধী দল এ অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
বিরোধী দলের সূত্র বলছে, সামনে সরকারের কার্যক্রমে যেসব দুর্বলতা বা জনদুর্ভোগ স্পষ্ট হবে, সেগুলোকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করে জনমত গঠনের চেষ্টা করা হবে। সংসদে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মীদের সক্রিয় রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বিরোধী দলের সাম্প্রতিক সংসদীয় ভূমিকার সমালোচনা করে এটিকে পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে। বিরোধী দল অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জনস্বার্থের বিষয়গুলোতে তারা সংসদে কঠোর অবস্থানে থাকবে।
ছয় দাবিতে লংমার্চ
রাজপথের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। তাদের ঘোষিত ছয়টি দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার-সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
জোটের নেতাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের দাবির সঙ্গে জনজীবনের সংকটকে একসঙ্গে সামনে এনে কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
চট্টগ্রামের পর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ঢাকায় বড় সমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংসদ ও রাজপথে সমন্বিত চাপ
১১-দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, সংসদে আলোচনার মাধ্যমে দাবিগুলোর সমাধান সম্ভব হলে তারা সেটিকেই অগ্রাধিকার দেবেন। তবে সংসদের বাইরে কর্মসূচি চালিয়েও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার প্রস্তুতি রয়েছে।
জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সংস্কার ও বিচার বাস্তবায়নের দাবির পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও তাদের কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।dec
সব মিলিয়ে সংসদে সরকারের জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলে ভবিষ্যতে বড় আন্দোলনের দিকে যাওয়াই বিরোধী জোটের বর্তমান কৌশল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
