সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো নির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।
নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এ অবস্থান জানান। ব্রিফিংটির বিষয় ছিল ‘স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি’। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকেরা অংশ নেন।
শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তাঁর ভাষ্য, শেখ হাসিনার বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে—এটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে কী করা উচিত—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো নির্দিষ্ট মত দেয়নি।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়েও মন্তব্য
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো এবং নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায় ওয়াশিংটন। বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার চলমান উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারত অবস্থান করছেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—এ তথ্য বিভিন্ন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও টানাপোড়েনের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়েও আলোচনায় রয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছে, প্রত্যর্পণসংক্রান্ত যেকোনো বিষয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বক্তব্যে তাই শেখ হাসিনার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা পছন্দ জানানো হয়নি; বরং বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করবে—এমন প্রত্যাশাই জানানো হয়েছে।

