সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহের ঐতিহাসিক ডেগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা নতুন দানবাক্সের টাকা গণনার চতুর্থ দফার কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে দরগাহ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ গণনা শুরু হয়।

গণনা শুরু হওয়ার আগে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দানবাক্স ও ডেগের সিল খুলে দেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টাকা গণনার কাজ শেষ হতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যাও হতে পারে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মোট টাকার হিসাব জানানো হবে। দরগাহের আয়-ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে গঠিত ১৩ সদস্যের কমিটির তিনিও একজন সদস্য।

আগের তিন দফায় কত টাকা মিলেছিল

গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফার গণনায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা পাওয়া যায়। তখন বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি পাউন্ড, ডলার, রিয়াল, রুপি ও দিরহামসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছিল।

এর আগে ২২ জুন প্রথম দফায় দরগাহের ডেগ ও দানবাক্সের টাকা গণনা করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। ওই টাকা চার দিনের দান থেকে জমা হয়েছিল।

দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই প্রায় ৫০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় খোলা নতুন ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা জমা দেওয়া হয়।

কীভাবে নতুন দানবাক্স স্থাপন

স্থানীয় প্রশাসন ও দরগাহ কর্তৃপক্ষের সূত্র অনুযায়ী, গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর দরগাহ পরিদর্শন করেন। তখন দরগাহের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন বিকেলে দরগাহের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন একটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সময়ে মানুষের দানের অর্থ রাখা তিনটি ঐতিহাসিক ডেগও সিলগালা করা হয়।

প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে তখন পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও সমালোচনা হয়। কেউ উদ্যোগটিকে স্বচ্ছতা আনার পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অনেকে প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় নতুন দানবাক্স বসানো নিয়ে আপত্তি জানান। এর মধ্যে সরকার তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে পদ থেকে প্রত্যাহার করে।

স্বচ্ছতার জন্য ১৩ সদস্যের কমিটি

দরগাহের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদিরের উদ্যোগে আয়োজিত ওই বৈঠকে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

পরে ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে দরগাহের ডেগ ও দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতার চতুর্থ দফার গণনা চলছে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version