রোববার (৪ অক্টোবর) নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেসুস রোনালদোর প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, পরবর্তী দল ঘোষণার সময়ও যদি রোনালদো আল-নাসরের হয়ে খেলেন এবং জাতীয় দলে ফিরতে চান, তাহলে তিনি ডাক পাওয়ার মতো খেলোয়াড়। শেষ সিদ্ধান্তটি অবশ্য রোনালদোকেই নিতে হবে।
কেন রোনালদো পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়েছিলেন?
রোনালদোকে ঘিরে বিতর্কের শুরু গত সপ্তাহে। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে বেঞ্চে রাখা হয় এবং তিনি মাঠে নামার সুযোগ পাননি। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও তাকে একাদশে না রাখার কথা জানানো হলে রোনালদো জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান।
ক্যাম্প ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো জানান, কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা যথাসময়ে ব্যাখ্যা করবেন। তবে একই সঙ্গে জাতীয় দলের প্রতি নিজের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।
ঘটনাটিকে অবশ্য বড় কোনো দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন না জেসুস। তিনি জানিয়েছেন, রোনালদোর সঙ্গে যোগাযোগের দরজা খোলা রয়েছে এবং জাতীয় দলে ফেরার বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে কথা হতে পারে।
রোনালদোর ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের
জেসুসের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—রোনালদোকে জাতীয় দলে ফেরার জন্য আলাদা কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। তিনি যদি আবার খেলতে চান এবং ক্লাব ফুটবলে সক্রিয় থাকেন, তাহলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো প্রোয়েনসাও রোনালদোর ফেরার পথ খোলা রাখার কথা বলেছেন। তিনি ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখেছেন এবং জাতীয় দলের জন্য রোনালদোর গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।
অর্থাৎ এখন বিষয়টি অনেকটাই রোনালদোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। জেসুসও জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে নিজের অধ্যায় কীভাবে শেষ করবেন, সেটিও রোনালদোর সিদ্ধান্ত।
পর্তুগাল অবশ্য রোনালদোকে ছাড়াই সফল
রোনালদোকে ছাড়া খেলেই সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ভালো করেছে পর্তুগাল। নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিপক্ষে জয় নিয়ে তারা উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ফলে রোনালদো না থাকলেও দলের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠেনি।
তবে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর অভিজ্ঞতা ও গোল করার ক্ষমতা এখনো পর্তুগালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের হয়ে তিনি দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার। এখন পর্যন্ত তাঁর নামের পাশে রয়েছে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল।
সামনে কী হবে?
পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে রোনালদো ফিরবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। জেসুসের বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বরের ম্যাচগুলোর আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে সময় পর্তুগালের সামনে আবারও নেশনস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকবে।
রোনালদো ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৬ সাল তাঁর পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ বছরও হতে পারে। ফলে জাতীয় দলের হয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত কীভাবে বিদায় নেবেন, সেটি নিয়েও ফুটবল বিশ্বে আগ্রহ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, জর্জ জেসুস আপাতত রোনালদোর জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ করেননি। বরং সিদ্ধান্তটি তুলে দিয়েছেন রোনালদোর হাতেই—ফিরতে চাইলে তাকেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
