নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রিপোর্ট
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি রবিবারের কার্যতালিকার ২২ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে। ফলে দুই আসামির আপিল এবং নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স নিয়ে উচ্চ আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রামিসা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসায় বসবাস করত। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। একই বাসার অন্য একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুন।
মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যে কক্ষে অবস্থান করছিলেন সেখানকার জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় অপর আসামি স্বপ্না খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে পলাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনের এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে আইন অনুযায়ী হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের বিষয়টিও নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
এখন তাদের করা আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স একসঙ্গে শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রবিবার মামলাটি ২২ নম্বর ক্রমিকে থাকায় এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের দিকে নজর থাকবে।
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার এই ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোচিত হয়। মামলাটির আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানি হাইকোর্টে তালিকাভুক্ত হওয়ায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে।

