রাউজানে যুবদলকর্মী হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই : এসপি মাসুদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী মুহাম্মদ করিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি জানান, নিহত করিমের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নয়টি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জুনায়েত কাউছার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেরানীহাটে করিমকে হত্যা

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, রাউজানের উরকিরচর এলাকার কেরানীহাটে মুহাম্মদ করিমকে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলটি প্রত্যন্ত এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় ৪-৫টি মোটরসাইকেলে করে একদল দুর্বৃত্ত আসে। তারা করিমকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে কিরিচ দিয়ে তার ঘাড় ও মাথায় কোপানো হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে খুব কাছ থেকে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

এসপি জানান, নিহত করিমের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ মোট নয়টি মামলা রয়েছে।

রাউজানে ২৭ হত্যাকাণ্ড

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

একই সময়ে রাউজানে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

চিকিৎসকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পুলিশের অভিযান সম্পর্কেও তথ্য দেন পুলিশ সুপার।

তিনি জানান, কয়েক দিন আগে এক চিকিৎসক লিখিত ও মৌখিকভাবে পুলিশকে অভিযোগ করেন, একটি সন্ত্রাসী চক্র ‘রান’ ও ‘সাজ্জাদ’-এর নাম ব্যবহার করে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। পরে বিদেশি একটি নম্বর থেকে মেসেজ পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

চাঁদা না দিলে রোগী সেজে চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান এসপি।

পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বায়েজিদ বোস্তামী ও হাটহাজারী এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসপি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করতেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদাবাজ চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কয়েক স্তরে কাজ করে চাঁদাবাজ চক্র

পুলিশ সুপার জানান, চাঁদাবাজ চক্রটি কয়েকটি স্তরে ভাগ হয়ে কাজ করে। একটি দল সম্ভাব্য চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। আরেকটি দল ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখানো বা হামলার জন্য আলাদা সদস্যরা কাজ করে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, তারা শুধু তথ্য সংগ্রহ ও চাঁদা দাবির সঙ্গে যুক্ত নয়; চাঁদা না দিলে ‘অ্যাকশন’ নেওয়া বা গুলি করার মতো কাজেও তারা অংশ নেয়।

তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে বলে জানান এসপি।

সীতাকুণ্ডে অস্ত্র প্রদর্শন: গ্রেপ্তার ৩

গত ১ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাও সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে।

এসপি বলেন, ওই সময় একটি পক্ষের মহড়ায় দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্য দেখা যায়। পরে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান শুরু করে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাদেক, কামরুল ও হানিফ নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাদেকের বাড়ির পেছন থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কামরুলের কাছেও অস্ত্র ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেলেও সেটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। হানিফ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় থাকেন বলে জানান পুলিশ সুপার।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন এসপি মো. মাসুদ আলম।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version