রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর স্বচ্ছ তদন্ত এবং দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়ার লক্ষ্যে তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে রংপুর মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিনাত আলী দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগে মামলাটির তদন্ত করছিলেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি। সোমবার বিকেলে তিনি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার প্রয়োজনীয় নথি, আলামত ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে জিনাত আলী ও মিলন কুমার চ্যাটার্জি রংপুর নগরের দাসপাড়া এলাকায় নিহত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান। সেখানে আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন তথ্য ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জিনাত আলীকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করবেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নগরে মশাল মিছিল করে। এর আগে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দেওয়া হত্যাকাণ্ডের কারণের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে ঘটনার সময় বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কে বিচ্ছিন্ন করেছিল, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করা হয়।

রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, তারা পুলিশের দেওয়া বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে এবং সব দিক থেকে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের দাসপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থি (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)–এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজনই দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, গণপতি চক্রবর্তী অভিযুক্তদের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠার পর এখন তদন্তভার ডিবিতে দেওয়া হলো।

Meta Title: রংপুরে চার খুনের তদন্ত ডিবিতে, পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবাদ

Meta Description: রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার তদন্তভার ডিবিতে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version