চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তাঁকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে স্বাগত জানান। এক দশকেরও বেশি সময় পর শির এই ওয়াশিংটন সফর দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শির সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্যের মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিমানবন্দরে বিরল অভ্যর্থনা
শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ান যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। সেখানে দুই নেতা ও তাঁদের স্ত্রীরা করমর্দন করেন, সংক্ষিপ্ত কথোপকথন করেন এবং ছবি তোলেন।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনার পাশাপাশি কামানের সালাম ও বিমান প্রদর্শনের আয়োজনও ছিল।
বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই নতুন সমঝোতা
শির সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তারা দুই দেশের বাণিজ্যিক বিরতি বা ট্রেড ট্রুস আরও কিছু সময় বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই বিরতি ১০ নভেম্বরের পরিবর্তে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে শুল্কসংক্রান্ত বিরতি বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হতে পারে। তবে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়েছে।
কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে
বাণিজ্যের পাশাপাশি চিপ ও উন্নত প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বিরল খনিজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান এবং ইরান ইস্যু দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এসব বিষয়ে নীতিগত ও কৌশলগত পার্থক্য রয়েছে।
শি জিনপিং এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত। তবে ওই বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো বাণিজ্য চুক্তির উল্লেখ ছিল না।
সফর ঘিরে কেন এত গুরুত্ব
শির ওয়াশিংটন সফর দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতির ওপরও নজর কেড়েছে। বাণিজ্যবিরতি কতটা কার্যকর থাকে, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশ কীভাবে এগোয় এবং তাইওয়ান ও ইরান নিয়ে অবস্থান কতটা সমন্বয় করা যায়—এসব বিষয় বৈঠকের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে সফর থেকে বড় কোনো অগ্রগতি হবে কি না, সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনিশ্চয়তার কথাও বলা হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিযোগিতার কারণে আলোচনার পাশাপাশি মতপার্থক্যও বহাল রয়েছে।
