খেলা ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবালের ঘোষণার পর ক্রিকেটাঙ্গনে বিষয়টি প্রশংসা পেলেও প্রশ্ন উঠেছে—বাড়তি ম্যাচ ফি থেকে কতজন ক্রিকেটার বাস্তবে উপকৃত হবেন?
গত বৃহস্পতিবার ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন পর্যায়ে ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দেন তামিম ইকবাল। এটি গত পাঁচ মাসে দ্বিতীয় দফায় ম্যাচ ফি বৃদ্ধির ঘোষণা। এর আগে গত ৮ এপ্রিল বিসিবির অন্তর্বর্তী কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার একদিন পরও পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও প্রথম শ্রেণির বেতন বাড়ানো হয়েছিল।
তবে এরপর শীর্ষ পর্যায়ের কোনো ঘরোয়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে নতুন সুবিধা কার্যকরভাবে পাওয়া যাবে আগামী ৩ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের আসর থেকে।
নতুন কাঠামোয় প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি বেড়েছে ১১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি গত মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। নারী ক্রিকেটেও তিন সংস্করণে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ হয়েছে।
বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, একজন ক্রিকেটার পুরো ঘরোয়া মৌসুম খেলতে পারলে বেতনসহ বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। তবে বাস্তবে সব ক্রিকেটারের নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত মৌসুমের এনসিএল চার দিনের প্রতিযোগিতায় আট দলের মধ্যে মাত্র ২১ জন ক্রিকেটার সব সাতটি ম্যাচ খেলেছিলেন। প্রতি ম্যাচে ৭০ হাজার টাকা হিসাবে তাঁরা সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি পেয়েছেন। এর বাইরে ছিল ভাতা ও বোনাস।
নতুন কাঠামোয় সাত ম্যাচের এনসিএলে প্রতি ম্যাচে দেড় লাখ টাকা করে একজন খেলোয়াড় সবগুলো ম্যাচ খেললে শুধু ম্যাচ ফি বাবদ ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।
এর পাশাপাশি নতুন ঘরোয়া কাঠামোয় লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচও থাকবে। প্রস্তাবিত ছয় দলের কাঠামোয় পাঁচটি প্রথম শ্রেণি, পাঁচটি লিস্ট ‘এ’ এবং ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললে ম্যাচ ফি থেকে আরও প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ থাকবে।
তবে মূল সমস্যা হচ্ছে, সব ক্রিকেটার নিয়মিত তিন সংস্করণে খেলার সুযোগ পান না। দলের স্কোয়াডে থেকেও যারা একাদশে থাকেন না, তাঁরা ম্যাচ ফি পান না; কেবল দৈনিক ভাতা পান। জাতীয় দল বা ‘এ’ দলের খেলোয়াড়দের নিয়মিত খেলার পাশাপাশি বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় তাঁরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। কিন্তু নিচের সারির অনেক ক্রিকেটারের জন্য ম্যাচ ফি বৃদ্ধির সুফল সীমিত থাকতে পারে।
এই সমস্যা কাটাতে বিসিবি এনসিএল দ্বিতীয় একাদশ চালুর পরিকল্পনা করছে। সেখানে মূলত মূল দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচ তিন দিনের এবং প্রথম শ্রেণির মর্যাদাহীন হওয়ায় এর ম্যাচ ফি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
একজন টুর্নামেন্ট কমিটির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় একাদশের মূল উদ্দেশ্য আয় নিশ্চিত করা নয়; বরং মূল ব্যবস্থার বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের ফর্ম ফিরে পাওয়া ও নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দেওয়া।
নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা ম্যাচ ফি নয়, বরং ম্যাচের অভাব। তাঁদের ম্যাচ ফি ১০ হাজার টাকার কম থেকে বাড়িয়ে সংস্করণভেদে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে দেশে আর কোনো ঘরোয়া নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বছর ঢাকা নারী প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগও হয়নি, আর প্রস্তাবিত নারী বিপিএলও মাঠে গড়ায়নি।
সাবেক জাতীয় অধিনায়ক রুমানা আহমেদ ম্যাচ ফি বাড়ানোকে স্বাগত জানালেও জানিয়েছেন, চলতি বছরে এখনো একটি ম্যাচও না খেলতে পারাটা হতাশাজনক।
সব মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানো ক্রিকেটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে পর্যাপ্ত ম্যাচ নিশ্চিত না হলে এবং খেলার সুযোগ সবার মধ্যে তুলনামূলকভাবে ন্যায্যভাবে বণ্টন না হলে বাড়তি ফি থেকে বড় একটি অংশের ক্রিকেটার কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সুবিধা নাও পেতে পারেন।

