আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে যখন আবেগের ঢেউ, তখন প্রতিপক্ষ বেনিনও নিজেদের কাজটি ভুলে যেতে নারাজ। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি যদি পেনাল্টি পান, সেটিও ঠেকানোর জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দানজিনু।
মঙ্গলবার রাতে মনুমেন্তালে আর্জেন্টিনা ও বেনিনের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই ম্যাচকে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিশেষ এক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু দানজিনুর কাছে এটি শুধু মেসিকে বিদায় জানানোর ম্যাচ নয়; এটি তাঁর দেশের হয়ে লড়াই করারও বড় সুযোগ।
‘মেসির গোল উপহার দেওয়ার জন্য আসিনি’
মেসি যদি ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি পান এবং সেটি থেকে গোল করে বিদায় নিতে চান—গোলরক্ষক কি তাঁকে সেই সুযোগ দেবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দানজিনুর উত্তর ছিল সরাসরি না।
তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি একজন গোলরক্ষক এবং তাঁর দায়িত্ব গোল ঠেকানো। মেসির বিপক্ষে পেনাল্টি হলেও তা রুখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
দানজিনুর বক্তব্যের সারকথা—মেসিকে সম্মান করা হবে, তাঁর বিদায়ী মুহূর্তকে মর্যাদাও দেওয়া হবে, কিন্তু মাঠে কোনো উপহার নয়। গোল করতে হলে মেসিকেই নিজের দক্ষতায় তা আদায় করে নিতে হবে।
মেসির প্রতি দানজিনুর শ্রদ্ধা
মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা দানজিনুর জন্যও বিশেষ অভিজ্ঞতা। ২৮ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম বিভাগের ক্লাব ক্রুগার ইউনাইটেডে খেলছেন।
তিনি মেসিকে ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ছোটবেলা থেকে মেসির খেলা দেখে বড় হওয়া দানজিনু এখন সেই খেলোয়াড়ের বিপক্ষেই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন।
তাঁর কাছে এই ম্যাচ ক্যারিয়ারের এমন একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে, যা সারাজীবন মনে রাখবেন। মেসির শেষ ম্যাচের অংশ হতে পারাকে তিনি বড় গর্বের বিষয় হিসেবেও দেখছেন।
আর্জেন্টিনাকে ভয় পাচ্ছে না বেনিন
আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও বেনিনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাগতিকরা বলিভিয়াকে ৪-০ এবং বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারিয়ে শেষ দুই ম্যাচে ১১ গোল করেছে।
তারপরও আর্জেন্টিনার শক্তিশালী দল দেখে ভয় পাচ্ছেন না দানজিনু। তাঁর মতে, ফুটবলে ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনই মাঠে নামে। জেতা, ড্র করা কিংবা হারা—সবই সম্ভব। বেনিন তাই শুধু মেসিকে দেখতে আসেনি; নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতেই মাঠে নামবে।
মেসির জার্সির জন্য সবাই আগ্রহী
ম্যাচের আবেগের আরেকটি দিক মেসির জার্সি। বেনিন দলের খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই মেসির জার্সি পেতে চান বলে জানিয়েছেন দানজিনু।
তাঁর মজার প্রস্তাব, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যেন পর্যাপ্তসংখ্যক জার্সি তৈরি করে, যাতে দলের একাধিক খেলোয়াড় মেসির কাছ থেকে জার্সি পাওয়ার সুযোগ পান। কারণ একজন খেলোয়াড়ই শুধু জার্সি চাইলে বাকিদের হতাশ হতে হবে।
মাঠে থাকবে আবেগ, লড়াইও
মেসির বিদায়ী ম্যাচ হওয়ায় মনুমেন্তালে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। কিন্তু বেনিনের জন্য এটি শুধুই উৎসবের অংশ নয়। আফ্রিকার দলটি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ হিসেবেও ম্যাচটিকে দেখছে।
একদিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাকে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে দেখার অপেক্ষা, অন্যদিকে তাঁকে আটকানোর প্রস্তুতি—এই দুই বিপরীত আবেগেই আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচটি বিশেষ হয়ে উঠেছে।
মেসিকে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রতিপক্ষরা, কিন্তু গোলের সুযোগ পেলে বেনিন গোলরক্ষক যে কোনো ছাড় দেবেন না—ম্যাচের আগে দানজিনুর কথাতেই তার পরিষ্কার ইঙ্গিত মিলেছে।
