তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে এক পডকাস্টে এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন তাহসিফ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। তার মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

পডকাস্টে কী বলেছিলেন তাহসিফ?

গত ২১ জুলাই ‘স্পিক উইথ রশীদ’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত পডকাস্টে অংশ নেন তাহসিফ সাউরি। ‘Milestone Tragedy: Inside the Bangladesh Air Force’ শিরোনামের ওই আলোচনায় তিনি বিমানবাহিনীতে কর্মজীবন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন।

পডকাস্টে উপস্থাপক জানতে চান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্য।

জবাবে তাহসিফ বলেন, একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, তিনি ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ভিডিওটি তিনি ধারণ করেছিলেন, এমন কথা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তাহসিফ প্রশ্ন তোলেন, ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওই সময়ের ঘটনাগুলোর কারণেই হয়তো তিনি আর বিমানবাহিনীতে নেই।

পডকাস্টের উপস্থাপক এরপর জানতে চান, ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কারণেই তাকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল কি না। জবাবে তাহসিফ বলেন, এমনটি হতে পারে। তবে ওই সময়ের সব ঘটনা তিনি প্রকাশ করতে পারবেন না এবং কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভিডিও ছড়ানোর দাবি করেছিলেন তাহসিফের বন্ধু

তাহসিফের সহপাঠী ও সহকর্মী কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাহসিফ জড়িত ছিলেন।

ইনতিসার আরও দাবি করেন, ভিডিওটি প্রকাশের পর তাহসিফকে বিভিন্নভাবে হেয় করা হয়েছিল। এসব ঘটনার সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে বলে নিজের ধারণাও প্রকাশ করেন তিনি।

তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ কিংবা তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই। বিষয়টি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত-ফলও প্রকাশ করা হয়নি।

তুরাগ নদ থেকে যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ

নৌপুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাট এলাকায় কচুরিপানার মধ্যে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের মরদেহ পাওয়া যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

ঢাকা জেলা নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, তাহসিফের শরীরে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

এদিকে, তাহসিফের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হয়নি। ফলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version