নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সিগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নালা ও সড়ক নির্মাণকাজ চলায় পুরো পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দেওভোগ-বিলেরকান্দি থেকে শাহ আলম শেখের বাড়ি হয়ে খালপাড় পর্যন্ত এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের এক পাশে নালা নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে, অন্য পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে মাটি। এতে চলাচলের জায়গা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি খোঁড়া এবং কোথাও বড় আকারের নালা তৈরি করা হয়েছে। সড়কের পাশেই রয়েছে অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে খোঁড়াখুঁড়ির পাশ দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয় অভিভাবক বিউটি আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় নালা খোঁড়া হয়েছে, আবার কোথাও রাস্তা উঁচু-নিচু হয়ে আছে। শিশুদের নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। বিকল্প পথে তাঁদের প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক ও নালা নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন আগে অনুমোদন পেলেও কাজ এগোচ্ছে ধীরগতিতে। সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে, আর নালা নির্মাণ শুরু হয়েছে প্রায় ১০ দিন আগে। তাঁদের দাবি, দুই-এক দিন কাজ চলার পর কয়েক দিন বন্ধ থাকছে। খোঁড়া অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকছে এবং অন্য অংশে মাটি ফেলে রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
তবে উন্নয়নকাজ নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি নেই। তাঁদের মূল অভিযোগ, কাজ শুরুর পর পুরো সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হলেও মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। একই সঙ্গে ধীরগতির কারণে দুর্ভোগও দীর্ঘ হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রতন মৃধা বলেন, নির্মাণকাজের কারণে সাময়িক অসুবিধা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন পুরো সড়ক বন্ধ রেখে কাজ শেষ না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। বিশেষ করে যাঁদের কাজকর্ম শহরকেন্দ্রিক, তাঁদের প্রতিদিন বিকল্প পথে চলতে হচ্ছে।
সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় নালা খননের মাটি অন্য কোথাও রাখার জায়গা নেই বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক টিটু। তাঁর ভাষ্য, জায়গার সংকটের কারণেই মাটি সড়কের ওপর রাখা হয়েছে।
তবে উন্নয়নকাজের কারণে মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা রেখেই ঠিকাদারকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। নিয়মবহির্ভূত কোনো কাজ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শাহ আলম শেখের বিলেরকান্দির বাড়ি পর্যন্ত ৩৯০ মিটার আরসিসি নালা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৩ হাজার টাকা। একই পথে ৪৭৬ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।
এ দুটি প্রকল্প এডিবি ও এএফডির অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরীফ এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর এবং শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি।
