নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট প্রায় দুই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরানোর সময় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনের ঘটনার পর হকার ও দোকানিদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একটি ভেকু ও পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও বাধার মুখে পড়েন।
ঘটনার পর দুপুরের দিকে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মিরপুর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে একটি, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া কাফরুল থানায় সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায়ও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে; আর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
