আইপিএলের ২০২৭ মৌসুম সামনে রেখে কোচিং স্টাফে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি পেসার লাসিথ মালিঙ্গা, ভারতের সাবেক বোলিং কোচ পরশ মামব্রে ও ফিল্ডিং কোচ কার্ল হপকিনসনকে বিদায় জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এর আগে প্রধান কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করেছে মুম্বাই। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ডকে, যিনি আগে দলটির ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করছিলেন।
মালিঙ্গার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি
২০২৪ সালে শেন বন্ডের জায়গায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং কোচ হিসেবে যোগ দেন লাসিথ মালিঙ্গা। খেলোয়াড় হিসেবে দলটির হয়ে দীর্ঘ নয় মৌসুম খেলেছেন তিনি। মুম্বাইয়ের চারটি আইপিএল শিরোপা জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই পেসারের।
২০১১ সালে মুম্বাইয়ের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রেও অবদান রাখেন মালিঙ্গা। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে মেন্টর ও কোচ হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
এক বিবৃতিতে মালিঙ্গাকে দলের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। তাঁর নিবেদন, লড়াকু মানসিকতা ও ক্রিকেটের প্রতি আবেগ বিভিন্ন প্রজন্মের ক্রিকেটারকে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
তবে কোচ হিসেবে তাঁর সময়ে দল প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি। ২০২৪ সালের আইপিএলে দশম স্থানে থেকে আসর শেষ করে মুম্বাই। ২০২৫ সালে চতুর্থ হলেও ২০২৬ মৌসুমে আবার নবম স্থানে নেমে যায় দলটি।
বিদায় নিচ্ছেন পরশ মামব্রে ও কার্ল হপকিনসনও
পরশ মামব্রে প্রথমবার ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে কাজ করেন। এরপর ২০২৪ সালে আবারও দলটির কোচিং স্টাফে যোগ দেন ভারতের সাবেক এই বোলিং কোচ। দুই মেয়াদেই বোলারদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন তিনি।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২৫ মৌসুমের আগে মুম্বাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন কার্ল হপকিনসন। ফিল্ডিং কোচ হিসেবে দলের ফিল্ডিংয়ের মান উন্নত করার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এবার তাঁর সঙ্গেও সম্পর্ক শেষ করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
পোলার্ডের নেতৃত্বে নতুন পরিকল্পনা
কোচিং স্টাফে এই রদবদলের মধ্য দিয়ে ২০২৭ সালের আইপিএলের জন্য নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রধান কোচ হিসেবে কাইরন পোলার্ডের দায়িত্ব গ্রহণ দলটির পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টানা কয়েক মৌসুমে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর নতুন কোচিং কাঠামোয় ঘুরে দাঁড়ানোই এখন দলটির অন্যতম লক্ষ্য।
