সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গিয়ে মাদকসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার বকচরা বাইপাসসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্য হলেন মো. মোস্তাইন বিল্লাহ (৩০) ও নাজমুল (২৮)। মোস্তাইন বিল্লাহ জেলা পুলিশের স্টাফ ফোর্স (এসএফ) শাখায় কর্মরত। এর আগে তিনি জেলা গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে নাজমুল জেলা পুলিশের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মাদকসহ আটক

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সোমবার রাতে ডিবির একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তিনিই মামলাটির তদন্ত করছেন। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি জানতে পারে, বকচরা বাইপাসসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে সেখানে অভিযান চালায় ডিবি।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি মোটরসাইকেলে থাকা মোস্তাইন বিল্লাহ ও নাজমুল পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ডিবি সদস্যরা তাঁদের আটক করেন।

পরে মোস্তাইন বিল্লাহর ট্রাউজারের পকেট থেকে ১০০ মিলিলিটারের দুটি বোতল উইনসেরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে আরও ৫৪ বোতল মাদক পাওয়া যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বোতলগুলোর গায়ে ‘কোডিন ফসফেট অ্যান্ড ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইড সিরাপ’ লেখা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযানে নিবন্ধনহীন একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে।

মাদক ব্যবসার অভিযোগ

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক সরোয়ার হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে তাঁদের দেওয়া তথ্য ও অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার পরিদর্শক হাওলাদার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, উইনসেরেক্স সিরাপ মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে ফেনসিডিলের মতো কোডিন ফসফেট উপাদান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি বিভাগীয় মামলাও করা হবে। তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতের শাস্তির পাশাপাশি বিভাগীয় শাস্তিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাতক্ষীরায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করার দাবিও জানান তিনি।

মঙ্গলবার গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version