মাছ চাষিদের খুব শিগগির ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ’ উদ্বোধনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের মোট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ‘জাতীয় মৎস্য পদক’ তুলে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মিঠাপানির মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। বর্তমানে দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ নারী রয়েছেন।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত ও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলে মৎস্য খাতে আরও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও রপ্তানি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। দেশের মৎস্যসম্পদ আরও বাড়াতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
কৃষক কার্ডে যুক্ত হবে মাছ চাষিরাও
কৃষকদের জন্য চালু হওয়া ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে মাছ চাষিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে মৎস্য চাষিরা সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন কৃষি-সম্পর্কিত সুবিধা আরও সহজভাবে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটসংক্রান্ত তথ্যে সরকার জানিয়েছে, দেশের কৃষকদের পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে এই কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের নগদ সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৎস্য উৎপাদনে বৃহত্তর ময়মনসিংহের বড় ভূমিকা
জাতীয় মৎস্য পক্ষকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছিলেন, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে উৎপাদিত হয়। এ তথ্য কিশোরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী আয়োজনের গুরুত্বও বাড়িয়ে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি চাষিদের সুরক্ষা ও কল্যাণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জেলেদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে পরিচয়পত্র প্রদান এবং নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চাষিদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের মৎস্য খাত আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
