মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। সৌদি আরবে হামলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়ে ৯৮ ডলার ছাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম

প্রাপ্ত বাজারতথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বা ১ ডলার ২৯ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ১১ সেন্টে দাঁড়ায়।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ শতাংশ বা ৯৭ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলার ১২ সেন্টে পৌঁছায়।

এর আগের দিন বুধবার লেনদেন শেষে ব্রেন্টের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। তবে ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছিল ৬৭ সেন্ট। নতুন হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

সৌদি আরবে হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পেছনে সৌদি আরবে একাধিক হামলার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সৌদি আরবের দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হন। একই দিন দেশটির শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হন। তবে তেলক্ষেত্রে হামলার দায় কার, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

তেল উৎপাদন ও পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা তেলের দামের ওপর দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।

সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ মার্কিন কর্মীদের

নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনরত জরুরি কাজে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এনেছে।

হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ এই অঞ্চলকেন্দ্রিক সামুদ্রিক পথের ওপর নির্ভরশীল।

এ অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরির ঝুঁকি থাকে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

তেলের দাম বাড়লে কী প্রভাব পড়তে পারে?

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি পেলে পরিবহন, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচও বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম, পরিবহন ব্যয় কিংবা পণ্যমূল্যে কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে আমদানি ব্যয়, সরকারি নীতিনির্ধারণ এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

সামনে কোন বিষয়গুলো নজরে থাকবে?

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতটা বিস্তৃত হয়, তেল উৎপাদন ও পরিবহনব্যবস্থা কতটা নিরাপদ থাকে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে কি না—এসব বিষয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয় নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সংঘাত প্রশমিত হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা সচল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version