কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক প্রবাসী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্বনয়াহাটী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি গাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবকের নাম রোকন উদ্দিন (২৫)। তিনি ওই গ্রামের ছত্তার মিয়ার ছেলে। প্রায় তিন বছর সিঙ্গাপুরে থাকার পর দেড় মাস আগে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। অবিবাহিত রোকন দুই ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের গাছে রোকনের মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়। তাঁর হাত, পা ও মুখ বাঁধা ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
রোকনের বাবা ছত্তার মিয়া জানান, সোমবার রাতে তিনি কৃষিজমিতে সেচপাম্প চালাতে বাড়ির বাইরে ছিলেন। বাড়িতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী হানুফা বেগম ও বড় ছেলে। রোকন বাড়ির আলাদা একটি কক্ষে থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, রাত ১টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সবাই ভেবেছিলেন, হয়তো ফোনে কথা বলতে বাইরে গেছেন। এরপর তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন কি না, তা কেউ জানেন না।
রোকনের মায়ের ভাষ্য, তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মরদেহের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তবে ফোনে কোনো সিম কার্ড ছিল না।
স্থানীয়রা জানান, সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পর রোকন বন্ধুদের সঙ্গে আজ রাতে ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে কি না, তা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

